A short documentary on Atia Moshjid ( আটিয়া মসজিদ) || Tangail || Travel Vlog



সাঈদ খান পন্নী ১৬০৯ সালে বাবা আদম কাশ্মিরীর কবরের সন্নিকটে আতিয়া মসজিদ নির্মাণ করেন।

মুহাম্মদ খাঁ নামক তৎকালীন এক প্রখ্যাত স্থপতি এই মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা ও নির্মাণ কাজে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। রওশন খাতুন চৌধুরাণী ১৮৩৭ সালে এবং আবুল আহমেদ খান গজনবী ১৯০৯ সালে মসজিদটির সংস্কার করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার এই মসজিদটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে অধিগ্রহণ করেন।

লাল ইট দ্বারা নির্মিত এই মসজিদটি আকারে বেশ ছোট, ৫৯ ফুট দৈঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থ এবং দেয়ালের পুরুত্ব সাড়ে ৭ ফুট । এর চারকোণে ৪টি অষ্টকোণাকৃতীর মিনার রয়েছে, যার উপরের অংশটি ছোট গম্বুজের আকৃতি ধারণ করেছে।

আতিয়া মসজিদের খিলানগুলি চতুর্কেন্দ্রিক রীতির। বারান্দা থেকে তিনটি প্রবেশপথের মাধ্যমে প্রধান প্রার্থনা কক্ষে প্রবেশ করা যায়। এ ছাড়া দক্ষিণ ও উত্তর দিকে দুটি করে প্রবেশপথ রয়েছে। কিবলা দেয়ালে তিনটি অলঙ্কৃত মিহরাব আছে; কেন্দ্রীয় মিহরাবের পেছনে বাইরের দেয়াল কিছুটা প্রক্ষেপিত। মসজিদের চার কোণে চারটি অষ্টভুজাকৃতির পার্শ্ব বুরুজ রয়েছে যা সমদূরত্বে মোল্ডিং নকশায় বিভক্ত। কয়েকটি স্তরে উদ্গত নকশা দ্বারা অলঙ্কৃত পার্শ্ব বুরুজগুলি ছাদের কার্নিশের উপর পর্যন্ত উঠে গেছে। সব শেষে বুরুজগুলি পলকাটা ছোট গম্বুজযুক্ত এবং কলস ফিনিয়ালে অলঙ্কৃত। প্রধান গম্বুজটি খিলানভিত্তিক স্কুইঞ্চ পদ্ধতিতে নির্মিত এবং বারান্দার উপর স্থাপিত অপেক্ষাকৃত ছোট তিনটি গম্বুজ পেন্ডেন্টেটিভ পদ্ধতিতে নির্মিত। এ তিনটি ছোট গম্বুজ আদিতে পলকাটা নকশাযুক্ত ছিল। এখানে উল্লেখ্য যে, প্রধান গম্বুজটি ধ্বসে পড়েছিল এবং সম্প্রতি এটি পুনঃনির্মিত হয়েছে। যদিও সামনে অবস্থিত তিনটি গম্বুজ পলকাটা ছিল, বর্তমানে পলেস্তরার প্রলেপে এগুলির আদি বৈশিষ্ট্য বিলুপ্ত হয়ে গেছে। দৃষ্টিনন্দন প্রধান গম্বুজ এ মসজিদের খুবই উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এবং তা অষ্টভুজাকৃতি ড্রামের উপর স্থাপিত। গম্বুজগুলিতে কলস ফিনিয়াল এবং ভিতের চারদিকে বদ্ধ মারলোন নকশা বেষ্টিত। আতিয়া মসজিদের ধনুকবক্রাকৃতির কার্নিশ একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। এ মসজিদের পশ্চিম দেয়ালের শীর্ষে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংবলিত প্রহরা দেয়াল (battle guard wall) লক্ষ্য করা যায়।

সুলতানি ও মুঘল—এই দুই আমলেরই স্থাপত্যরীতির সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে এই মসজিদের নির্মাণ শৈলীতে ।

বাংলাদেশে প্রচলিত বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক মুদ্রিত ১০ (দশ) টাকা মূল্যমানের নোটের একপার্শ্বে আতিয়া মসজিদের ছবি স্থান করে নিয়েছিল প্রায় এক যুগ ।
Documentary film on Atiya Moshjid ( আটিয়া মসজিদ) || Tangail || Travel Vlogs
#atia #tangail #travelvlogs

source YouTube